তিন বছর পর ফেরত গেল টাকার ব্যাগ: বসিরহাটের রিয়েল হিরো আবু কাশেম গাজির সততায় গর্বিত সমাজ
#BASIRHAT #বসিরহাট #Honesty #RealHero #Police #Money
সমাজে এখনও যে সৎ মানুষ আছেন, বসিরহাটের আবু কাশেম গাজি যেন তার জীবন্ত প্রমাণ। বসিরহাট তপারচর এলাকার এই মাছবিক্রেতা প্রমাণ করে দিয়েছেন – সততা ও মানবিকতা এখনও জীবিত।
ঘটনার শুরু
প্রায় তিন বছর আগে বসিরহাট দণ্ডিরহাটের নগেন্দ্রকুমার উচ্চ শিক্ষাতনের শিক্ষক চম্পক নন্দী কোনও কাজের সূত্রে গিয়েছিলেন বসিরহাট পুরাতন বাজারে। সেদিন ভুলবশত তিনি একটি টাকার ব্যাগ ফেলে আসেন। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ফিরে পাননি সেটি। সময়ের স্রোতে ভুলেও গিয়েছিলেন সেই ঘটনার কথা।
কিন্তু একজন ভোলেননি – আবু কাশেম গাজি।
কাশেমবাবু সেই সময় বাজারে মাছ বিক্রি করছিলেন। ভিড়ের মধ্যে হঠাৎই একটি কাপড়ের ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে তিনি সেটি তুলে নেন। ভেবেছিলেন, কোনও খদ্দের হয়তো মাছের ব্যাগ ফেলে গেছেন। পরে খোলার সময় ব্যাগে পান টাকা ভর্তি বান্ডিল!
সঙ্গে সঙ্গে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন কাশেম, কিন্তু কাউকে খুঁজে না পেয়ে ব্যাগটি বাড়িতে নিয়ে যান এবং স্ত্রীর কাছে তা আলমারিতে রাখার অনুরোধ করেন।
তিন বছর পর, চমক!
সম্প্রতি কী মনে হতে হঠাৎ ব্যাগটি খোলেন কাশেম। তাতে এক দোকানের ক্যাশ মেমো খুঁজে পান। দোকানটি ছিল চম্পক নন্দীদের স্টেশনারি দোকান। ব্যস! আর দেরি করেননি তিনি। সঙ্গে সঙ্গে ব্যাগ নিয়ে যান দোকানে এবং স্বহস্তে চম্পকবাবুর হাতে তুলে দেন সেই হারানো ব্যাগটি।
চম্পক নন্দীর প্রতিক্রিয়া
তিন বছর পর নিজের হারানো টাকার ব্যাগ অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে হতবাক চম্পক নন্দী বলেন,
“যেভাবে ব্যাগটি হারিয়েছিলাম, ঠিক সেভাবেই ফিরে পেলাম। একটি টাকাও কম ছিল না! ভাবতেই পারছি না, এখনও এমন মানুষ সমাজে আছেন।”
কাশেমের জবাব?
এক গাল হেসে আবু কাশেম বলেন,
“করোনার সময়ে তো খুব কষ্টে দিন কাটতো, ঘরে এত টাকা রেখে ভয়ে ঘুমোতে পারতাম না! এতদিনে নিশ্চিন্ত লাগছে। মালিককে টাকার ব্যাগ ফিরিয়ে দিতে পেরে মনটা হালকা হলো।”
সম্মান জানালেন পুলিশ প্রশাসন
বসিরহাট থানার আইসি সুরিন্দর সিংহ কাশেমকে সংবর্ধনা জানিয়ে বলেন,
“এমন মানুষ জীবনে প্রথম দেখলাম! অভাবের সংসারে থেকেও তিন বছর ধরে টাকার ব্যাগ আগলে রেখে তা ফেরত দেওয়া এক বিরল দৃষ্টান্ত। সমাজকে এমন মানুষই পথ দেখায়।”
পরিবার ও সমাজের গর্ব – আবু কাশেম গাজি
কাশেমের এই সততায় গর্বিত তাঁর পরিবার ও প্রতিবেশীরা। অনেকেই ভিড় করছেন তাঁকে একবার দেখার জন্য। করোনার সময় যখন সংসার চালানোই দায় ছিল, তখন কুড়িয়ে পাওয়া সত্তর হাজার টাকা তিনি যক্ষের ধনের মতো আগলে রেখেছিলেন।
এই মানুষগুলিই সমাজের প্রকৃত রিয়েল হিরো।
এঁদের গল্পই নতুন প্রজন্মের সামনে আলো হয়ে উঠুক।
আপনিও যদি এমন মানবিক ঘটনার সাক্ষী হন, জানান আমাদের।
The Knowledge Network – সত্যিকারের গল্প তুলে ধরার প্রত্যয়।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন